স্বপ্নের অরোরার ছবি কীভাবে তুলবেন?

Like
Like Love Haha Wow Sad Angry

অরোরা শুধুমাত্র আকাশে লেয়ারের উপর লেয়ার ছড়ানো-ছিটানো রং যেটি আপনি ইচ্ছা করলে ঠুস করে তুলে ফেলতে পারবেন- যদি এরকম মনে হয় তাহলে আপনি ভুল ভাবছেন। একবার ট্রাই করে দেখুন। যখন ছবি তুলতে যাবেন দেখবেন এটি উধাও হয়ে গেছে কালো আকাশের মধ্যে। অবশ্যই সেটি তখনো আকাশেই থাকে। আপনার ক্যামেরা শুধুমাত্র সেই ছবিটি তোলার জন্য প্রস্তুত থাকে না।

আসল কথা হচ্ছে নর্দার্ন লাইট ফটোগ্রাফি করার জন্য আপনার ক্যামেরার ম্যানুয়ালটা ভালোভাবে জানতে হবে। তাই আপনার স্মার্টফোন, আপনার ট্যাবলেট এবং সাধারণ ক্যামেরাগুলো স্বাভাবিকভাবেই অরোরার ছবি তুলতে পারবে না। তাই ডিএসএলআর রেডি করুন এবং নিম্নোক্ত টিপসগুলো ফলো করুন।

Source: independent.co.uk

অরোরার যথাযথ স্থান নির্বাচন করুন

নর্দান লাইটের ছবি তুলতে হলে আপনাকে অবশ্যই পৃথিবীর নর্থে আসতে হবে। অন্য কোথাও আপনি নর্দার্ন লাইট পাবেন না। যেমন চলে আসতে হবে আপনাকে উত্তর কানাডায়, আলাস্কায়, গ্রিনল্যান্ডে, আইসল্যান্ডে অথবা নরওয়ে, সুইডেন, ফিনল্যান্ড অথবা রাশিয়া। এছাড়া অন্য কোনো জায়গায় আপনি নর্দার্ন লাইট পাবেন না বললেই চলে। শুধুমাত্র ছবি তোলার জন্য নয় অনেকেরই যাদের অরোরা দেখার বহুদিনের ইচ্ছা তারা এই দেশগুলোর উত্তর দিকগুলোতে নর্দান লাইটের দেখা পেতে পারেন।

Source: Arctic Adventures

অরোরার ছবি তোলার সময় মাথায় রাখতে হবে ওরা খুব উজ্জ্বলভাবে আবির্ভূত হলেও এর সাধারণ এবং গতানুগতিক ইলুমিনেশন কিন্তু খুবই কম উজ্জ্বল হয়ে থাকে। তাই ক্যামেরায় এর ছবি তোলা খুব একটা সহজ কাজ হয় না। এর জন্য অবশ্যই লাগে টেকনিক্যাল জ্ঞান এবং একটু ভাগ্য। যদি উদীয়মান হওয়ার সময় ওর ছবি তোলা যায় তাহলে সব থেকে বেশি ব্রাইট ছবি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রেও খুব উজ্জ্বল ছবি পাওয়া যায় কিন্তু সেক্ষেত্রে অবশ্যই ক্যামেরা ম্যানুয়াল ভালোভাবে জেনে নিতে হবে।

ট্রাইপড ব্যবহার করুন

প্রথমেই যে জিনিসটি দরকার হবে সেটি হচ্ছে একটি ট্রাইপড। নর্দার্ন লাইটের ছবিগুলো সব সময় দীর্ঘ শাটার স্পিডে তোলা লাগে। তাই লং এক্সপোজার শাটার স্পিডের জন্য অবশ্যই একটি ট্রাইপডের দরকার। এটা ছাড়া ছবি তোলা প্রায় অসম্ভব। কখনো এটা ভাবলে চলবে না হয়তো আপনি কোনো কাঠের উপর বা গাড়ির উপর অথবা কোনো বস্তুর উপর ক্যামেরাটি রেখে কিংবা আপনার প্রেমিকার মাথার উপর ক্যামেরাটি রেখে ছবিটি খুব ভালোভাবে তুলতে পারবেন। সামান্য নড়াচড়ার ফলে একটি সুন্দর ছবির ফলাফল আসতে পারে কাঁপা কাঁপা এবং ঘোলা।

Source: The Aurora Zone

ট্রাইপড যদি ওজনে ভারী হয় তাহলে খুব বেশি ভালো হয়। কারণ ক্যামেরার শাটার সামান্য পতনের ফলে ক্যামেরা কেঁপে যেতে পারে। ভারী ট্রাইপড নিলে এই সমস্যা থাকবে না। ট্রাইপড খুব বেশি ভারী হলে সেটিকে বহন করা কষ্ট হয়ে যায় তাই অবশ্যই দেখেশুনে নিতে হবে যেটি আপনি স্বাভাবিকভাবে বহন করতে পারবেন এবং ছবি লং এক্সপোজারে তোলার জন্য উপযোগী হবে।

ফ্রেমিং ঠিক করুন

অরোরার ছবি তোলার ক্ষেত্রে সঠিক স্কেল প্রদান করা খুবই কঠিন একটি কাজ। কারণ একই জায়গার সবুজ রঙের ছবি আপনি কতবার যে কতভাবে দেখেছেন সেটাই আপনার ধারণা নেই। ফ্রেম হিসেবে ল্যান্ডমার্ক, বৃহৎ কোনো বস্তু অথবা যে কোনো একটি সাবজেক্ট সহ আপনি আকাশের কিছু অংশকে দৃষ্টিসীমার মধ্যে আনতে পারেন। এর অনুপ্রেরণা হিসেবে আপনি অবশ্যই ভ্যানগগের স্টারি নাইট ছবিটি ভালোভাবে দেখতে পারেন।

Source: Guide to Iceland

আপনার ক্যামেরাটি যথাযথ নিচু করুন এবং যদি পারেন কোনো হ্রদ, কোনো পাহাড় বা কোনো তুষারময় শিখরের অন্তর্ভুক্ত করে ফেলুন। এরপর আপনি আপনার ফ্রেমিং নিয়ে সন্তুষ্ট হতে পারবেন। এই পর্যন্ত পৌঁছানোর আগে অবশ্যই নিশ্চিত হয়ে নেবেন আপনি আপনার ক্যামেরার সাথে ভালোভাবে পরিচিত কিনা, ক্যামেরার ম্যানুয়ালের সাথে ভালোভাবে পরিচিত কিনা। যদি তা না হয় তাহলে ছবিটি আপনার জন্য দীর্ঘ একটি সময় ও সাধনা নষ্ট করবে।

ম্যানুয়াল মোড সেট করুন

যেহেতু নর্দার্ন লাইটের ছবি তুলবেন, সেক্ষেত্রে আপনাকে ক্যামেরাটি অবশ্যই মেনুয়াল মোডে সেট করে রাখতে হবে। কারণ আপনার হাতে রাখতে হবে ক্যামেরার ফুল কন্ট্রোল। ক্যামেরার মেনুয়ালের ফলে আপনি আপনার শাটার স্পিড, এপারচার সহ যে যে বিষয়গুলো ছবি তোলার জন্য অত্যন্ত জরুরি সেগুলো ম্যানুয়ালি কন্ট্রোল করতে পারবেন।

শাটার স্পিড

আপনি যখন ক্যামেরায় ছবি তুলছেন ক্যামেরার শাটারটি খুলে দিচ্ছে যাতে ক্যামেরার সেন্সরের উপর শাটারের ভেতর দিয়ে আলো প্রবেশ করতে পারে। শাটার যতক্ষণ পর্যন্ত খোলা থাকবে এর ফলাফল হবে ছবিটি তত বেশি উজ্জ্বল হবে। লং এক্সপোজার মূলত সব থেকে বেশি উপযোগী অরোরার ছবি তোলার ক্ষেত্রে। শাটার স্পিড নির্ভর করবে অরোরা কত দ্রুত তার রঙ পাল্টাচ্ছে।

Source: Source: The TelegraphT

যদি আপনি খুবই স্লো একটি শাটার স্পিড নির্বাচন করেন আর অরোরা যদি খুব দ্রুত পরিবর্তিত হয়, তাহলে আপনি মোটামুটি একটি উজ্জ্বল ছবি পাবেন। আপনি যদি চান একটি অতি সুন্দর এবং সবুজ আভা যুক্ত ছবি তুলতে সেক্ষেত্রে ৫ সেকেন্ড থেকে ১০ সেকেন্ডের শাটার স্পিড যথেষ্ট বলে আমার মনে হয়। এবং সেটা যথেষ্ট ডিটেইল ধরতে পারবে। কিন্তু যদি ২০ সেকেন্ড থেকে ৩০ সেকেন্ড বা তারও বেশি করা হয় এবং সেক্ষেত্রে যদি অরোরার গতি ধীর হয়ে থাকে তবে সব থেকে ভালো গ্লো এর ছবি তোলা সম্ভব হবে।

অ্যাপাচার

অ্যাপাচার বিষয়টি শাটার স্পিড থেকে বেশ জটিল এবং দীর্ঘতর একটি বিষয়। সাধারণভাবে বলতে গেলে অ্যাপাচার হচ্ছে কত দীর্ঘ সময় ধরে শাটার খোলা থাকে যখন আপনি ছবি তুলছেন। এর প্রভাব পড়ে ছবি কী পরিমাণ উজ্জ্বল হয়েছে এর উপর। সাধারণত f/ দিয়ে এটাকে নির্দেশ করা হয়। খুবই নিম্নমাত্রার f/1.4 থেকে f/2.8 পর্যন্ত যেখানে উচ্চমাত্রার এফ f/22 পর্যন্ত হয়ে। থাকে কিন্তু অ্যাপাচার শুধুমাত্র আলোর বিষয় নয় এটি ছবির গভীরতার উপর প্রভাব ফেলে এবং ফোকাসিং এর উপর প্রভাব ফেলে। খুব কম মাত্রার অ্যাপাচার শুধুমাত্র একটি ছবির ফোকাসিং এর বিশেষ অংশ। এছাড়া বাকি অংশগুলো ঘোলা অবস্থাতেই থাকে।

Source: sciencenews.org

একটি অতিরিক্ত মাত্রার অ্যাপাচার ছবিটির প্রতিটি অংশকে ফোকাসে রাখে। এ থেকে বোঝা যায় খুব কম মাত্রার অ্যাপাচার এর ফলে ছবির উজ্জ্বলতা কম আসে এবং ব্যাকগ্রাউন্ড ঘোলা হয়ে থাকে। বেশি মাত্রার অ্যাপাচার এর ফলে ছবিতে ডার্ক এর পরিমাণ বেশি থাকে এবং ছবিটার প্রতিটা অংশ ফোকাসে থাকে। নর্দার্ন লাইটের ছবি তোলার ক্ষেত্রে আপনাকে f/ রাখতে হবে যথাসম্ভব নিচু মাত্রার। এই ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পরিমাণ হতে পারে f/1.4 থেকে f/1.8 এবং এর মধ্যেই ছবিটি নিখুঁত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

এই এস ও

আইএসও বিষয়টি পরিমাপ করে ক্যামেরার সেন্সরটি আলোর প্রভাবে কী পরিমাণ প্রতিক্রিয়া দেখায়। কিন্তু এখানে ব্যাপার হচ্ছে আই এস ওর পরিমাণ যত বেশি হবে ছবির মান তত খারাপ হতে পারে। তাই উত্তম হবে একে যত সম্ভব কম মাত্রায় রাখা। সাধারণত দিনের বেলা ওয়ান হান্ড্রেড আই এস ও উত্তম হয় ছবি তোলার ক্ষেত্রে। কিন্তু অরোরার ছবি তোলার ক্ষেত্রে আই এস ওর স্টপ রাখা উচিত 400 থেকে 800 এর মধ্যে।

Source: zolimacitymag

এর থেকে যদি বেশি রাখার প্রয়োজন পড়ে তাহলে প্রয়োজনমতো অল্প বাড়ানো যেতে পারে। যদি আপনার ক্যামেরার শাটার স্পিড সর্বোচ্চ সময় পর্যন্ত দেয়া থাকার পরও অর্ডার ছবিতে ডার্ক এর পরিমাণ বেশি থাকে তাহলেই আপনার আই এস ও এর মাত্রা বাড়ানো যেতে পারে অন্যথায় বাড়ানোর চেষ্টা না করাই উত্তম।

সঠিকভাবে ফোকাস করা

ক্যামেরার ম্যানুয়াল সেটিং এডজাস্ট হয়ে গেলে এর পরের ধাপটি হচ্ছে সঠিকভাবে ফোকাস করা। এক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই ক্যামেরার ফোকাসিং মোড ম্যানুয়ালে নিয়ে আসতে হবে। ক্যামেরার ম্যানুয়াল সেটিং এবং ফোকাসিং এর ম্যানুয়াল সেটিং এক জিনিস নয়। এক্ষেত্রে আপনার ক্যামেরা এবং লেন্সের গায়ে সুইচ করে ক্যামেরাটির ফোকাসিং সিস্টেম অটো থেকে ম্যানুয়ালে নিয়ে আসতে হবে।

Source: Amazon

প্রথমত আপনার ফ্রেমের যেকোনো একটি জায়গা পয়েন্ট করুন। একটি তারা, একটি চাঁদ‌ একটি গাছ এবং আপনার ফোকাসিং নবটি যে কোনো দিকে ঘোরালেই দেখা যাবে আপনার সাবজেক্টই পরিষ্কার হয়ে আপনার সামনে আসছে। বেশ কিছু পরীক্ষামূলক ছবি নেওয়ার পর আপনি যদি আপনার ফোকাসিংয়ে সন্তুষ্ট হয়ে থাকেন, এরপরেই আপনি অরোরার ছবি তোলার জন্য প্রস্তুত।

বারবার সেটিংস
অ্যাডজাস্ট করুন

সত্যি কথা বলতে অরোরার ছবি তোলার জন্য একজন ফটোগ্রাফার কখনোই রেডি হতে পারে না। কারণ ওরা ক্ষণে ক্ষণে এর স্থান পরিবর্তন করে এবং রঙের পরিবর্তন করে। এর ফলে হয়তো আপনার নেওয়া প্রথম শট, দ্বিতীয় বা দীর্ঘ অনেকক্ষণ শট নেওয়ার পরও আপনার একটি ছবিও সঠিকভাবে না আসতে পারে। তাই অবশ্যই আপনার সেটিংগুলো বারবার অ্যাডজাস্ট করুন।

Source: preservedlight

অ্যাডজাস্ট করার ফলে আপনি আগের থেকে উত্তম ছবি পাওয়ার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যাবেন। ক্যামেরাকে বোঝার সব থেকে ভালো উপায় হলো এর উপর বেশি বেশি রিসার্চ করা। সঠিকভাবে ক্যামেরা বুঝে এবং জেনে যদি আপনি ছবি তুলতে যান তাহলে আপনি অবশ্যই আপনার মনঃপুত একটি অরোরার ছবি তুলে ঘরে ফিরতে পারবেন।

The post স্বপ্নের অরোরার ছবি কীভাবে তুলবেন? appeared first on Trip Zone.

Like
Like Love Haha Wow Sad Angry
Booking.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *